দুপুর ২ টা । মাদ্রিদের ব্যস্ত রাস্তায় ব্যাগ কাঁধে, রঙিন চশমা চোখে, সাদা সারমেয়সমেত এক শ্মশ্রুমণ্ডিত মানুষের দেখা মিলল। কিছুক্ষণ পর কাগজের একটা বাক্স পাশে রেখে ফাঁকা জায়গায় শুরু করে দিলেন ফুটবল খেলা।
চলল পা দিয়ে কারিকুরি, সর্পিল ড্রিবলিং। মজার ব্যাপার, তাঁর দিকে খুব একটা মনোযোগ নেই পথচারীদের। দু-একজন প্রবীণ পথচারীদের দিকে বল বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু সাড়া পাওয়া গেল না! ফুটবল খেলতে খেলতেই হেঁটে যাওয়া এক মেয়ের ফোন নম্বরও চেয়ে বসলেন। মেয়েটি মুখের ওপর ‘না’ করে দিল! একবার করলেন কী, কাগজের বাক্সটা নিয়ে ভিক্ষেও চাইলেন। কী আশ্চর্য, একটা পয়সাও পড়ল না তাতে!
![]() |
| এ কোন রোনালদো |
বল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে করতে ‘ক্লান্ত’ই হয়ে পড়লেন। বল পিঠে নিয়ে রাস্তায় শুয়েই পড়লেন। পাশ থেকে এক তরুণী বলে উঠলেন, ‘খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’ ক্লান্তিতে পেট বুঝি চিরবিরিয়ে উঠল! শুরু করলেন গপাগপ খাওয়া। খেতে খেতে আড়চোখে একবার মুচকি হাসলেন। তাঁকে লোকে চিনতে পারছে না বলে? খাওয়ার পর আবার শুরু হলো বল নিয়ে কারিকুরি। এবার এক পথচারী বেশ ভালোই দক্ষতা দেখালেন। সবশেষে যোগ দিল এক শিশু। তাকে বললেন, ‘তুমি কী পারো, আমাকে দেখাও।’ শিশুটা সাধ্যমতো দেখাল।
শিশুকে ডেকে নাম জিজ্ঞেস করলেন। ছেলেটা লাজুক কণ্ঠে বলল, ‘নিকোলাস’। ফুটবলে একটা অটোগ্রাফ দিয়ে দিলেন নিকোলাসকে। ধীরে ধীরে খুলে ফেললেন দাঁড়ি-গোঁফ। যা হওয়ার তা-ই হলো। উপস্থিত জনতার মধ্যে হুল্লোড়-চিৎকার। অটোগ্রাফ নেওয়া, ছবি তোলার হিড়িক। পুলিশি পাহারায় বেরিয়ে এলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
ক্লান্ত দুপুরে মাদ্রিদের প্লাজা দে সালাওয়ে এভাবেই মাতিয়ে তুললেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। ঘটনাটা মাস ছয়েক আগের, তবে গতকাল এই ঘটনার পুরো ভিডিওটা নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন রোনালদো। একটি প্রযুক্তিপণ্যের প্রচারণের অংশ হিসেবেই রোনালদোর এ ছদ্মবেশ ধারণ এবং নিখুঁত অভিনয়। রোনালদো কেবল ফুটবলটা দারুণ খেলেন না, অভিনয়েও দেখা যাচ্ছে সিদ্ধহস্ত! তথ্যসূত্র: মার্কা, মিরর।
